ফিলিস্তিনিদের সংখ্যালঘু করতে এবং ইসরাইলের জনসংখ্যা কাঠামো বদলে দিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক। সাহায্যের মধ্যে ছিল ১০ লাখ রুশ নাগরিককে ইসরাইলে পাঠানো। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলের এক গোপন অডিও রেকর্ডিংয়ে বিষয়টি উঠে আসে।
রেকর্ডিংয়ে এহুদ বারাক বলছেন, আমি সব সময় পুতিনকে বলতাম, আমাদের শুধু আর এক মিলিয়ন দরকার। তাহলেই ইসরাইল নাটকীয়ভাবে, সত্যিই নাটকীয়ভাবে বদলে যাবে। ওই এক মিলিয়ন রুশ।
২০১৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি এ রেকর্ডিং করা হয়েছিল। সেখানে বারাক বলেন, ইসরাইলের এখন ভবিষ্যতে আসা রুশ বসতিদের ‘মান নিয়ন্ত্রণ’করা উচিত। তিনি এমন একটি পরিকল্পনার কথা ভাবছেন, যার মাধ্যমে বিয়ে, দাফন এবং ইহুদির সংজ্ঞা নিয়ে অর্থোডক্স রাব্বিদের একচেটিয়া ক্ষমতা ভাঙা যাবে। পরিশীলিত ও সূক্ষ্মভাবে ব্যাপক ধর্মান্তরের দরজা খুলে দেওয়া উচিত।
বারাকের মতে, অনেক রুশ ধর্মান্তর ছাড়াই ইসরাইলে বসবাস করতে পারে। এটিকে ‘পূর্বশর্ত’ দিয়ে আটকানোর দরকার নেই। সামাজিক চাপে, বিশেষ করে দ্বিতীয় প্রজন্মের ক্ষেত্রে, মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন থেকেই ধর্মান্তর হবে।
১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনের পর আরব ও মুসলিম দেশগুলো থেকে যেসব ইহুদি এসেছিলেন, রেকর্ডিংয়ে তাদের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করেন বারাক। তিনি বলেন, ইসরাইলের প্রতিষ্ঠাতারা- যারা মূলত পূর্ব ইউরোপের শ্বেতাঙ্গ আশকেনাজি ইহুদি ছিলেন, তারা যতটা পেরেছেন ততটাই করেছেন। তারা উত্তর আফ্রিকা থেকে, আরব দেশগুলো থেকে, যেখান থেকেই হোক ইহুদিদের নিয়ে এসেছিলেন। এখন আমরা বাছাই করতে পারি। আর আমি মনে করি, কে ইহুদি হবে, তা নিয়ে আমাদের অনেক বেশি খোলা মন থাকা উচিত। আমরা সহজেই আরও এক মিলিয়ন মানুষকে গ্রহণ করতে পারি।
বারাক বলেন, ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকের শুরুতে রুশ অভিবাসনের ঢল ইসরাইলকে নাটকীয়ভাবে বদলে দিয়েছে। যুবতী মেয়েরাও এসেছিল, যারা কথা বলতে পারত না। এই সময় এপস্টেইনকে হাসতে শোনা যায়।
বারাক বলেন, ছোট ইসরাইলের সীমার ভেতরেও একটি সমস্যা আছে। আমি মনে করি, আরবরা (ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিকেরা) ধীরে ধীরে বাড়ছে। ৪০ বছর আগে তারা ছিল ১৬ শতাংশ, এখন তারা ২০ শতাংশ। এরপর তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইসরাইলের ভেতরে কারা সমতা পাওয়ার যোগ্য।
বারাক বলেন, আমাদের প্রথমে দ্রুজদের সমতা দিতে পারা উচিত। তারা প্রায় এক শতাংশ। তাদের আচরণ পুরোপুরি ইসরাইলিদের মতো।’
দ্রুজরা একটি ধর্মীয় সংখ্যালঘু। ১৯৫০-এর দশক থেকে তারা বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় অংশ নিচ্ছে। মুসলিম ও খ্রিষ্টান ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ক্ষেত্রে যা প্রযোজ্য নয়। এরপর তিনি বলেন, তারপর খ্রিষ্টান সংখ্যালঘুদের কথা আসে। তারা আরও প্রায় দুই শতাংশ। তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের চেয়েও ভালো।
এপস্টেইন ও বারাকের সম্পর্ক ছিল প্রায় এক দশকের। ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে বারাক ৩০ বারেরও বেশি এপস্টেইনের নিউইয়র্কের টাউন হাউসে গিয়েছিলেন। এপস্টেইন ফাইলের একটি আলাদা এফবিআই মেমোতে বলা হয়েছে, এপস্টেইন ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তিনি তার অধীনে গুপ্তচর হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।
বারাকের পরিবারের শিকড় পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ায়। পরে তারা বসতি স্থাপনকারী হিসেবে ফিলিস্তিনে আসে।
অনলাইন ডেস্ক